১৪ জুন, ২০২৬
আর কোনও হামলা না চালাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ওই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা চালানো উচিত হয়নি। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে একটি শান্তি চুক্তি আসন্ন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। যদিও এই চুক্তি একই দিনে ইরানের সঙ্গে সই হবে কি না, সেই বিষয়ে নিশ্চিত করেননি তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছি, যা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং সব পক্ষেরই এখন আক্রমণ বন্ধ করা উচিত।’’
তিনি বলেন, এই চুক্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর শান্তির সূচনা হতে পারে; আসুন আমরা এটি হাতছাড়া না করি!
সত্যিই কী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হচ্ছে?
এর আগে, একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি আজই স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে আলোচনায় বারবার বিলম্ব হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, একটি বড় ধরনের সাফল্য খুব দ্রুতই আসছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দ্রুত সাফল্য আসার সময়সীমা নিয়ে বিশ্লেষকরা এখন সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির বিষয়ে তেহরান এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা ঘোষণা করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, চুক্তি সইয়ের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি এবং এটি রোববার হচ্ছে না।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং কোনও চূড়ান্ত চুক্তি নিশ্চিত করা হয়নি।
চুক্তির খসড়ায় কী আছে, জানাল ইরান-
একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি সই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের এই ইঙ্গিতের মাঝেই চুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; যা কূটনৈতিক আশাবাদ এবং সরকারি সতর্কতার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান স্পষ্ট করছে।
চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে বলে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। কূটনীতিকরা এই সফরকে চুক্তির ‘‘চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার’’ লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। মহাদূতিয়ালিতে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানও বলেছে, আগীম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।