নরসিংদীতে অটোরিকশাচালক হত্যার ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার

১৬ জুন, ২০২৬

নরসিংদীতে অটোরিকশা চালক সারোয়ার হোসেন (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (বিভাটেক) এবং বিক্রি করে দেওয়া চারটি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (১৫ জুন) বিকালে নরসিংদী সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ।

নিহত সারোয়ার হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী এলাকার হাজী রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হারুয়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (২৭) এবং নরসিংদীর বুড়িদিয়ামারা এলাকার আশিক (২১)।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন দুপুরে সারোয়ার তার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হন। পরে ১৪ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকার একটি জমির পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

নিহতের বাবা হাজী রহমান এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সারোয়ারের সঙ্গে আনোয়ারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন আনোয়ার কৌশলে সারোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে অটোরিকশাটি নিয়ে এর চারটি ব্যাটারি বিক্রি করে দেন অভিযুক্ত আনোয়ার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামিই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। হত্যার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।