১৬ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অথচ গত জানুয়ারিতে তারা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’-এর জুন সংস্করণে ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
শুল্ক ও কর কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেই অর্থমন্ত্রীর উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ ছয় মাস আগে, অর্থাৎ জানুয়ারিতে, একই সময়ের জন্য তাদের পূর্বাভাস ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে। এর আগের প্রতিবেদনে এ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে যা ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমার আভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৭ শতাংশ।