বাবুগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই বিএনপি নেতাকে গণপিটুনি

১৬ জুন, ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান তারা।

গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায়।

আটক ও গণপিটুনির শিকার বিএনপি নেতারা হলেন— চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা এবং তার সহযোগী একই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা।

স্থানীয়রা জানায়, জাকির মোল্লা একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী এবং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে বালু ব্যবসা পরিচালনার জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

গতকাল সোমবার রাতে জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে জাকির মোল্লাকে রেইনট্রিতলা এলাকায় যেতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে জাকির মোল্লা তার সহযোগী রাজ্জাক মোল্লাকে নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা জাকির মোল্লা ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিস-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।

তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির মোল্লা দাবি করেছেন, তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি। বালু ব্যবসায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেছেন, বিএনপি কখনো চাঁদাবাজি বা চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় থাকায় ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।