ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের দলীয় নেতারা

১৮ জুন, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমঝোতা চুক্তির জন্য তার দলের মধ্যেই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান দলের বহু নেতা ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ।

 সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তির কারণে আমেরিকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। অথচ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এতে রাখা হয়নি।

লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি তো একে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ভুল পররাষ্ট্রনীতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গত বুধবার দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। এমনকি লেবাননেও তাদের সব সামরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এর পাশাপাশি, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়েছে তেহরান। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় তহবিল দেবে। এই অর্থ মূলত ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান কখনো কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না।

চুক্তির এই শর্তগুলো নিয়েই আপত্তি তুলেছেন রিপাবলিকান নেতারা। সিনেটর বিল ক্যাসিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, রিগ্যান আজ কবরের ভেতরেও অস্থির হয়ে উঠতেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ক্যাসিডি বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ইচ্ছা মোটেও কমানো যায়নি। বরং হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলে যে কাজ হয়, ইরান সেটি বুঝে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে তারা এই হুমকি আবার দেবে। আর এখন চুক্তির টাকা দিয়ে তারা নতুন অবকাঠামো গড়ে তুলবে।

একইভাবে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর থমাস ম্যাসিও এই ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি হিসাব দিয়ে বলেছেন, এই অর্থের পরিমাণ আমেরিকার কংগ্রেসের বার্ষিক সড়ক ও সেতু নির্মাণ খরচের চেয়েও প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

এদিকে ট্রাম্পের প্রথম সরকারের জাতিসংঘ দূত নিকি হ্যালি এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সাহায্য করবে?

এক্সে হ্যালি লিখেছেন, এই সরকার আমেরিকার মৃত্যু হোক স্লোগান দেয়। তারা আমাদের সেনাদের হত্যা করে এবং আমেরিকার মাটিতেও আমেরিকানদের হত্যার চেষ্টা করে। যে দেশ আমাদের ধ্বংস করতে চায়, আমরা এখন তাদেরই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, নিষেধাজ্ঞা তুলছি এবং ভবিষ্যতে আরও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

এই পুরো বিষয়টি এখন অনেককে বারাক ওবামার ২০১৫ সালের ইরান চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প নিজেই ২০১৮ সালে ওবামার সেই চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। তখন ট্রাম্পের দাবি ছিল, ওবামার চুক্তি ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলছেন, ট্রাম্পের এই নতুন চুক্তি ওবামার চুক্তির মতোই এক ধরনের তোষণনীতি। তাদের প্রশাসন আগে যা প্রত্যাখ্যান করেছিল, এখন যেন সেটিই করা হচ্ছে।

পেন্স মনে করেন, এমন চুক্তি হওয়া উচিত যাতে ইরান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া থামায়। তা না হলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে নিজেদের মতো করে সামরিক কাজ শেষ করতে দেওয়া উচিত।

টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ অবশ্য এটিকে ওবামার চুক্তির সঙ্গে মেলাতে রাজি নন। যদিও ইরানকে এত অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনিও বেশ উদ্বিগ্ন।

এক্সে ট্রাম্পকে অনুরোধ করে টেড ক্রুজ লিখেছেন, আমি প্রেসিডেন্টকে বলব, এই বিজয় নষ্ট করবেন না। আমরা তাদের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছি। এখন তাদের পুনর্গঠনের জন্য অর্থ দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না।

সূত্র: আলজাজিরা