যাত্রা ও সার্কাসের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ

১৮ জুন, ২০২৬

বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে যাত্রাপালা ও সার্কাস। তবে সময়ের আবর্তনে এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এবার সেটাকে সুরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেবে সরকার। এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। যাত্রা ও সার্কাস নিয়ে যেন প্রশাসনের হয়রানির শিকার না হতে হয়, সেজন্য আগামীতে এসবের অনুমতি সরাসরি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনের যাত্রাশিল্পের মানোন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালার শেষ দিন বুধবার বিকালে বিষয়টি জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যাত্রাদল ও সার্কাসের প্রাথমিক অনুমতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেই প্রদান করা হবে, যাতে জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার হতে না হয়। যাত্রাশিল্পকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরুজ্জীবিত করা হবে। তবে এর নামে কোনো ধরনের জীবনবিমুখ, সংগ্রামবিমুখ কিংবা অশ্লীল কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।’

মন্ত্রী জানান, সুস্থ ও রুচিশীল বিনোদন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আমরা এই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যমটিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাচনভঙ্গি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, প্যান্ডেল ব্যবস্থাপনা এবং বাদ্যযন্ত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে হবে।’

কর্মশালায় অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রাদলের মালিক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাদের নানা সংকট, সুস্থ কর্মপরিবেশ, আর্থিক নিশ্চয়তা ও ঝুঁকিভাতার দাবি তুলে ধরেন। আলোচকরা গ্রামীণ ঐতিহ্য ফেরাতে সামাজিক, ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন নতুন প্রযোজনা নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রাশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য ফেরাতে দেশব্যাপী জোরালো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে শিল্পকলা একাডেমি।

সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জুবায়ের বাবু, বিশিষ্ট পালাকার রাখাল বিশ্বাস এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকরা।