১৯ জুন, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে তাদের নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি নতুন ও সম্প্রসারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা আপাতত এই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। তাছাড়া, এই অঞ্চলের বাইরে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও তারা নাকচ করেনি।
নতুন প্রকাশিত মানচিত্রে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে, যা ইসরায়েল সীমান্ত থেকে লেবাননের ভেতরে ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। মানচিত্রে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি এর আগে এপ্রিল মাসের 'ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন' বা বাফার জোন থেকে আরও গভীরে চলে গেছে। ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন' ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিমে সীমান্ত বরাবর লিটানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে প্রায় ৫২টি লেবানিজ গ্রাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন মানচিত্রে ইসরায়েল তাদের 'নিরাপত্তা অঞ্চল' লেবাননের কয়েক কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে এবং লিটানি নদীর উত্তরে হিজবুল্লাহ ঘাঁটি নাবাতেহ এর কাছের কিছু এলাকাকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সেনারা এরই মধ্যে ওই সব এলকায় অগ্রসর হয়েছে এবং অভিযান চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সেনারা ওইসব এলাকায় কয়েকসপ্তাহ ধরে অভিযান চালালেও এতদিন সেখানকার কোনও মানচিত্র প্রকাশ করেনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সেখানকার ওই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করল। ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, “আইডিএফ সেনারা লেবাননের নির্দিষ্ট এসব এলাকায় অবস্থান করে নিজেদের সেনা ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবেলা করে যাবে।”
ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অঞ্চল থেকে সেনা সরাবে না এবং সেখানে সেনা উপস্থিতি বহাল রাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বুধবার সই হওয়া অর্ন্তর্বতী চুক্তিতে লেবানন সহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি লেবাননের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্যও সব পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসা ইসরায়েল এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননে লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গভীর দূরত্বও সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা নিয়ে ট্রাম্প চরম বিরক্ত প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই হামলার কারণে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তেহরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার দাবি করেছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ট্রাম্পের এই চুক্তিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপর্যাপ্ত মনে করছেন নেতানিয়াহু। সেকারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েল নিজেদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখছে।
সূত্র: রয়টার্স