১৯ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নিয়েছে দু’পক্ষ। তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত অনুমতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাপ ও কৌশলে চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সমঝোতা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের খোদ রিপাবলিকান শিবিরেই দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির বিষয় সামনে আসার পর নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
দলটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও সিনেটর অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তি ইরানকে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা যায়নি, বরং হরমুজ প্রণালিকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ আরও বেড়েছে। এমনকি এটি দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতির ভুল বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।
একজন রিপাবলিকান সিনেটর এই চুক্তিকে ‘গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। আরেকজন বলেন, চুক্তির কিছু প্রকাশিত ধারা ‘অবিবেচক ও অযৌক্তিক’ মনে হচ্ছে। ট্রাম্পপন্থি কিছু বিশ্লেষকও এ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বরং তারা শিখে গেছে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি কার্যকর এবং ভবিষ্যতেও তারা এটি চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।
মিসিসিপির রিপাবলিকান সিনেটর ও পাওয়ারফুল সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, আমার আশঙ্কা, এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যগুলোকে আলোচনার টেবিলে বিসর্জন দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় শুরু হয়েছে ৬০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া এই সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী বিরোধ নিষ্পত্তি, পারমাণবিক ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার কথা রয়েছে দুপক্ষের।
শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে এরইমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের আরব উপসাগর ও ওমান সাগর উপকূলের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর আর কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করবে বলেও জানিয়েছে তারা।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে নিজেদের প্রভাবের বার্তা দিয়েছে ইরান। জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত অনুমতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ৬০ দিনের জন্য কোনো ট্রানজিট ফি নেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে তার জন্য, জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষের কাছে চলাচলের আবেদন জানাতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দাবি, নানা চাপ ও কৌশল ব্যবহার করে এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি নিয়ে তার ভিন্ন মত থাকলেও ইরানের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এতে অনুমোদন দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা মানেই ওয়াশিংটনের অবস্থান মেনে নেয়া নয় বলেও সাফ জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।