২০ জুন, ২০২৬
রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে সেনা মোতায়েনে জনবল সংকটে পড়েছে জার্মানি। স্বেচ্ছাসেবী না মিললে বাধ্যতামূলকভাবে সেনা পাঠানোর কথা ভাবছে দেশটি। দেশটির গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লিথুয়ানিয়ায় ৪৫তম সাঁজোয়া ব্রিগেড গঠন করছে বার্লিন। ২০২৭ সালের মধ্যে ইউনিটটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ সেনা এবং ২০০ বেসামরিক কর্মী থাকার কথা রয়েছে।
তবে বর্তমানে সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৮০০ জন। ফলে এখনও কয়েক হাজার পদ খালি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলছেন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে জনবল সংকট সবচেয়ে বেশি। আইটি বিশেষজ্ঞ, গোয়েন্দা ইউনিট, সিবিআরএন প্রতিরক্ষা কর্মী, যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী এবং সহায়তা ইউনিটে প্রয়োজনীয় লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবার চেয়ে সামরিক প্রস্তুতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান ফ্রয়েডিং বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য আগামী বছরের মধ্যে লিথুয়ানিয়া ব্রিগেডকে পূর্ণ সক্ষমতায় আনা। এজন্য স্বেচ্ছাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছিলেন, মোতায়েন কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর নির্ভর করা হবে। এ লক্ষ্যে বড় ধরনের নিয়োগ প্রচারও চালানো হয়।
তবে সেই প্রচারণা প্রত্যাশিত সাফল্যের মুখ দেখেনি। এছাড়া নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে লিথুয়ানিয়ায় মোতায়েনকৃত সেনাদের বেতন নিয়ে হিসাবগত ভুলের অভিযোগ।
আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানজারব্রিগেড ৪৫ চালু করা হয় ২০২৫ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির এটিই প্রথম স্থায়ী বিদেশি সেনা মোতায়েন।
ব্রিগেডটির প্রধান ঘাঁটি লিথুয়ানিয়ার রুদনিনকাই এলাকায়। এটি বেলারুশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। আরেকটি ঘাঁটি রুকলায়, যা রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে।
জার্মান কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে সম্ভাব্য রাশিয়া-সংঘাত মোকাবিলায় দেশকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জার্মানির সামরিক প্রস্তুতি ও ইউক্রেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ইউরোপে আবারও সামরিকীকরণের প্রবণতা বাড়ছে।
তবে মস্কো জানিয়েছে, আগে আক্রমণের শিকার না হলে রাশিয়ার ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই।