২৩ জুন, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, অধিকারের সংগ্রামসহ নানা সংগ্রামের মধ্যে সংগীতের অভুতপূর্ব শক্তি রয়েছে।
সোমবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বিশ্বসংগীত দিবস উদযাপনে দুই দিনব্যাপী সংগীত উৎসবের সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংগীতের মধ্যে বিপুল শক্তি রয়েছে। যুগে যুগে আমরা সংগীতের সেই বিস্ফোরণ দেখতে পাই। বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, অধিকারের সংগ্রামসহ নানা সংগ্রামের মধ্যে সংগীতের অভুতপূর্ব শক্তি আমরা দেখেছি। বায়ান্ন কিংবা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী পর্যায়ে নব্বই এবং চব্বিশে; যেকোনো গণঅভ্যুত্থানে সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা যা দেখেছি, যা শুনেছি সেটা অতুলনীয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
স্বাগত বক্তৃতায় একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, বর্তমান সরকার নতুন সমাজ গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, একটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি গঠনের যে কাজ আমরা করছি, তাতে সকল সমাজের সকল মানুষ একই ছাতার তলে থাকতে চাই। নিজেদের আনন্দ-দুঃখ মিলে আমরা একটি রংধনু তৈরি করতে চাই। সংস্কৃতিকে আমরা একটা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির মধ্যে আনতে চাই।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সব সময় সংগীতশিল্পীদের পাশে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সম্ভার ও সংগীতের জগতকে শিল্পকলা একাডেমি আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন করে আমরা ভিন্ন রকম এক উদাহরণ তৈরি করতে চাই।
আলোচনা পরবর্তী সংগীত সন্ধ্যার শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীবৃন্দ সমবেত কণ্ঠে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে একক সংগীত পরিবেশন করেন সুকন্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, মুন্নি কাদের, ডলি মন্ডল, নওসীন তাবাসসুম স্মরন, পিন্টু ঘোষ, রাকা পপি, শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি, দেবলীনা সুর ও এস এম শামীম আক্তার।
দলীয়সংগীত পরিবেশন করে হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কণ্ঠশিল্পীরা দ্বৈত ও একক সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর বিভিন্ন দূতাবাস থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীরা একক সংগীত পরিবেশন করেন। সবশেষে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস।