দশতলা থেকে পড়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু; প্রেমিক প্রাইভেট শিক্ষক গ্রেফতার

২৪ জুন, ২০২৬

রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকার নর্থ ভিউ হোটেলের ১০ তলার ছাদ থেকে পড়ে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর প্রেমিক ও প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিহত নুজশাত জাহান (১৭) রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া শাহরিয়ার আহমেদ সাকিন (২৫) নগরীর ধাপ চিকলীভাটা এলাকার ফোরকান আলীর ছেলে এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মানসিক নির্যাতনের কারণে নুজশাতের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, নুজশাতের সঙ্গে গত প্রায় নয় মাস ধরে সাকিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ হতো। মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্তও নুজশাতের সঙ্গে সাকিনের কথা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিন তাদের সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন নুজশাত।

পরে তিনি সেন্ট্রাল রোডের নর্থ ভিউ হোটেলে গিয়ে লিফটে করে সরাসরি ভবনের ছাদে ওঠেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে তিনি ছাদে প্রবেশ করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।

পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটের দিকে নুজশাত ছাদের রেলিংয়ে বসা অবস্থায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নুজশাতের মোবাইল ফোনে থাকা বিভিন্ন বার্তা মুছে ফেলা হয়েছিল। এছাড়া সাকিনের সঙ্গে তার একাধিক ছবি ও ব্যক্তিগত কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, প্রাইভেট শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনের কারণেই নুজশাতের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার সাকিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।