২৫ জুন, ২০২৬
দিল্লিতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যাব চালক বাসু কুমার সিংকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ঘটনার দিন ওই শিশুকে অপহরণ করার জন্য প্রায় ৪৫ মিনিট ‘উপযুক্ত সময়ের’ অপেক্ষায় ওত পেতে ছিল অভিযুক্ত চালক।
গত সোমবার ভোরে দক্ষিণ দিল্লির একটি মেট্রো স্টেশনের কাছে ফুটপাতে মা-বাবার সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল শিশুটি। সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়। ২৯ বছর বয়সী অভিযুক্ত বাসু কুমার সিং বর্তমানে দুই দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের নৃশংস অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে ছক কষেছিল অভিযুক্ত
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে দক্ষিণ দিল্লিতে এক যাত্রীকে নামিয়ে গুরুগ্রামের দিকে যাচ্ছিল বাসু। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সে মেট্রো স্টেশনের কাছে ফুটপাতে মা-বাবার সঙ্গে শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
অভিযুক্ত পুলিশকে জানায়, প্রথমে সে তখনই শিশুটিকে তুলে নেওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু শিশুটি তার বাবার একদম গা ঘেঁষে ঘুমাচ্ছিল। পাশেই ঘুমাচ্ছিল তার আরও তিন ছোট বোন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সে গাড়ি পার্ক করে অপেক্ষা করতে থাকে।
দীর্ঘ ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর ভোর সোয়া ৪টার দিকে শিশুটি ঘুমের ঘোরে একটু দূরে সরে যায়। এই সুযোগে অভিযুক্ত চালক শিশুটির মুখ চেপে ধরে এবং স্টার্ট দিয়ে রাখা গাড়িতে তুলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বাবা, আমাকে বাঁচাও
মেয়ের ধস্তাধস্তির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাবার। তিনি পুলিশকে জানান, মেয়েটি চিৎকার করে বলছিল, বাবা, আমাকে বাঁচাও। কিন্তু তিনি উঠে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করার আগেই চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়।
ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশ সূত্রের খবর, শিশুটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বাসু তাকে চড় মারে এবং ভয় দেখায়। এরপর সে গাড়ি চালিয়ে মান্ডি গ্রামের কাছে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ধর্ষণের পর অভিযুক্ত চালক শিশুটিকে গাড়িতে করেই আবার সেই অপহরণের জায়গায় ফেরত নিয়ে আসছিল। কিন্তু সেখানে পুলিশ এবং শিশুটির মা-বাবাকে খুঁজতে দেখে সে গাড়ি ঘুরিয়ে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ সীমান্তের দিকে চলে যায়।
সেখানে একটি গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে সে। পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে তার মুখমণ্ডল থেঁতলে দেওয়া হয়। এরপর আরাবল্লী পাহাড়ের কাছে মরদেহটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতক।
অপরাধের ৭ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তের আচরণ ছিল স্বাভাবিক। মরদেহ ফেলে আসার পর সে অন্য এক যাত্রীকে গাড়িতে তোলে এবং পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরীতে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকেই সকাল ১১টার দিকে—অর্থাৎ অপরাধের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসু কুমার সিং গত ১০ বছর ধরে গুরুগ্রামে বাস করছে। সে বিবাহিত এবং তার ছয় মাস ও চার বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। তবে তার পরিবার বিহারে থাকে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুই দিনের রিমান্ড শেষে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস