২৫ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ মানেই শুধু গোল, জয়-পরাজয় কিংবা তারকাদের গল্প নয়। কখনো কখনো গ্যালারির একজন সমর্থকও হয়ে ওঠেনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তেমনই এক চরিত্রের নাম ‘উদি নেকো’। মাঠে তুরস্কের পারফরম্যান্স যতটা না আলোচনায়, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন এই রহস্যময় সমর্থক।
অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। তবে দলের ব্যর্থতার মাঝেও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছেন এক সমর্থক, যার অদ্ভুত বেশভূষা অনেককেই প্রথম দেখায় চমকে দিয়েছে।
ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের ম্যাচ চলাকালে সম্প্রচার ক্যামেরা হঠাৎই ফোকাস করে গ্যালারিতে বসা সেই সমর্থকের দিকে।মুহূর্তেই টেলিভিশন পর্দা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে তার ছবি। এরপর থেকেই শুরু হয় কৌতূহল, কেএই মানুষ?
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে কোনো চলচ্চিত্রের চরিত্র কিংবা পৌরাণিক কোনো যোদ্ধা। পুরো মুখ কালো রঙে আবৃত, মাথার চুল ওচোখের চারপাশে সাদা রঙের ব্যবহার, সঙ্গে লম্বা সাদা দাড়ি। এই ব্যতিক্রমী রূপ তাকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত সমর্থকদেরএকজন বানিয়ে দিয়েছে।
‘উদি নেকো’ নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষটির প্রকৃত নাম নেজদেত ওলচেরমান। তুরস্কে তিনি নতুন কেউ নন। বহু বছর ধরেদেশটির জনপ্রিয় ক্লাব বেসিকতাসের নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনি। ক্লাবটির ঘরের মাঠ তুপরাস স্টেডিয়ামে নিয়মিত দেখাযায় তাকে। ক্লাব ফুটবলের সেই আবেগই এবার তিনি নিয়ে এসেছেন বিশ্বকাপের গ্যালারিতে।
তবে তার এই সাজ শুধুই দর্শকদের নজর কাড়ার জন্য নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি প্রতীকী অর্থও। ওলচেরমানের এই রূপ ‘ব্ল্যাক বুল’ বা কালো ষাঁড়ের প্রতীক, যা শক্তি, সাহস, সহনশীলতা এবং কখনো হার না মানার মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। নিজের দলকে সেইবার্তাই দিতে চান তিনি।
মজার বিষয় হলো, এই রূপ ধারণ করতে তাকে বেশ পরিশ্রমও করতে হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচের আগেঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন তিনি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ধাপে ধাপে মুখে রং করেন, সাজিয়ে তোলেন চুল ও দাড়ি। তারপরইহাজির হন গ্যালারিতে।
‘উদি নেকো’ নামটিরও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। ‘নেকো’ এসেছে তার নাম নেজদেতের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে। আর ‘উদি’ শব্দটি তুরস্কেরঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘উদ’ থেকে নেওয়া, যা বাজাতে দক্ষ শিল্পীদের সম্মানসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফুটবলের প্রতি তার এই অসাধারণ ভালোবাসার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। বেসিকতাস ক্লাব একাধিকবার তাকে বিশেষ সম্মানজানিয়েছে। অথচ পেশাগত জীবনে ফুটবলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি মূলত একজন সফল জুয়েলারি ব্যবসায়ী। বিভিন্নসূত্রের দাবি, অতীতে তিনি তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্বকাপে তুরস্কের যাত্রা প্রায় শেষ। মাঠের লড়াইয়ে হয়তো তারা সফল হয়নি। কিন্তু গ্যালারির একজন সমর্থক দেখিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলশুধু ফলাফলের গল্প নয়; এটি আবেগ, পরিচয় এবং ভালোবাসারও গল্প। আর সেই ভালোবাসার প্রতীক হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মৃতিতেজায়গা করে নিয়েছেন রহস্যময় ‘উদি নেকো’।