লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়ে খুন: কুমিল্লায় পাশাপাশি কবরে সমাহিত

২৭ জুন, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলোচিত হত্যাকাণ্ডে নিহত মা ও তার তিন কন্যাকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ১০টায় জানাজা শেষে পৌরসভার নটিয়া এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

দাফনের আগে নিহতদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো তাদের দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। অনেকের মুখে ছিল একটাই প্রশ্ন—নিষ্পাপ শিশুদের অপরাধ কী ছিল?

পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান জুনায়েদ হোসেন সিফাতের কান্না উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। স্বজনরা জানায়, তিনি বারবার বলছিলেন, এখন আমাকে কে দেখবে? সাত বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। মা আর বোনদের নিয়েই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। আজ সবাই চলে গেল।

বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় সড়কের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে সন্দেহভাজন একজনকে দেখতে পান এবং বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবনের ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার আগে একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। বাসাভাড়ার টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকার নিহত শাহিনুর বেগমের কাছে জমা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাত বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে রায়পুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।