যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা

২৮ জুন, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জবাবে উপসাগরীয় দেশের মার্কিন একাধিক স্থাপনায় পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল ছোড়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার (২৮ জুন) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এরপর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রোববার ভোরে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। 

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন হামলাগুলো ছিল ‘বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব’। এতে ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণ ও মাইন স্থাপন-সংক্রান্ত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা যে কাজ অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, প্রয়োজনে তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে। 

আইআরজিসির দাবি, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার পোর্ট সালমানে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর পৃথক আরেক বিবৃতিতে  হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া’।

বিবৃতিতে আইআরজিসি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের হাতে রয়েছে। তারা আরও বলেছে, ‘এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অতীতের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’