‘নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের’

২৯ জুন, ২০২৬

দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার গত এক দশকের বেশি সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গতিশীল করতে সরকার নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই হার নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা আয় বৈষম্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, অতীতে গ্যাসের অপ্রতুলতা নতুন শিল্প স্থাপন ও উদ্যোক্তা তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এতে নতুন ব্যবসায়ী শ্রেণি গড়ে ওঠার পরিবর্তে বিদ্যমান শিল্প মালিকরাই আরও বড় হয়েছেন। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও পড়েছে।

আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈষম্যের মাত্রা শূন্য থেকে এক স্কেলে পরিমাপ করা হয়। সূচক যত বেশি হয়, বৈষম্যও তত বাড়ে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান এখনও কম। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এই খাতের অবদান আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরকার একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। 

পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যেসব শিল্প পার্কে প্লট বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে।