ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮

২৯ জুন, ২০২৬

ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির এ হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (২৯ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিল্পনগরী দনিপ্রোতে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। এলাকাটিকে দীর্ঘদিন ধরেই রুশ বাহিনীর নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তু করে আসছে।

টেলিগ্রামে এক পোস্টে আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজা বলেন, নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। তিনি ভাঙা জানালাসহ একটি ভবন এবং সিঁড়ির কাছে পড়ে থাকা একটি মরদেহের ঝাপসা ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি জানান, হামলায় আহতদের অনেকের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত, শরীরে স্প্লিন্টারের ক্ষত এবং হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া অনেকের শরীরজুড়ে বিস্ফোরণের চিহ্ন রয়েছে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, জাপোরিঝিয়ায় ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং এক শিশুসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। শহরটি যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অঞ্চলটিকে নিজেদের দখলকৃত এলাকা দাবি করলেও এর পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনো নিতে পারেনি রাশিয়া।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া সুমি, ওডেসা, চেরনিহিভ, খেরসন এবং খারকিভ অঞ্চলও হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সোমবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, শান্তি চুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান ২০২৪ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। ওই বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে ত্যাগ করতে হবে।

চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, রাশিয়া দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল রয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেনের দেওয়া নতুন প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পুতিন বলেন, কিয়েভ পারস্পরিকভাবে দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে যুদ্ধ সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছে।