শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার ওপর জোর গভর্নরের

৩০ জুন, ২০২৬

দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি খাতের ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী, গভীর ও গতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, পিএলসি (সিএসই)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। 

সিএসই চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গভর্নর বলেন, পুঁজিবাজার সম্প্রসারিত হলে উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে, ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের চাহিদা পূরণে কার্যকর বিকল্প উৎস তৈরি হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে পুঁজিবাজার বেসরকারি খাতের অর্থায়নের একটি শক্তিশালী উৎস হিসেবে বিকশিত হবে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হবে।

বৈঠকে গভর্নর আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ২০ মে জারি করা এফইআইডি সার্কুলার নং-০২ এর মাধ্যমে ‘নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস’ টাকা অ্যাকাউন্ট (নিটা) পরিচালনার বিধিমালা সংশোধন করেছে। 

তিনি জানান, সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নিটা হিসাবে জমা হবে এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো প্রযোজ্য মূলধনী মুনাফা কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

সিএসই প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, মহাব্যবস্থাপক মোর্তূজা আলম এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুল হক।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।