৩০ জুন, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনটি আবাসিক হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সিট দখলের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। এ সময় শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণ, অনাবাসিক ভাতাসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির।
মানববন্ধনে নেতারা দাবি করেন, শহীদ শামসুজ্জোহা হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এখনো অবৈধভাবে সিট দখল করে থাকার একাধিক নজির রয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নাসিম আহমেদ অবৈধভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অবস্থান করছেন। এছাড়া, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরও শহীদ শামসুজ্জোহা হলে সিট দখল করে আছেন। একইভাবে বৈধ আবাসিকতার সুযোগ না থাকলেও ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ফার্মেসি বিভাগের নাহিদ, বাংলা বিভাগের আরিফ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের লতিফুর অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন তারা।
শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, “সিট দখলের প্রতিবাদে আজকের এই মানববন্ধন থেকে আমরা ছাত্রদলকে শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করার আহ্বান জানাই। রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের কায়দায় সিট দখল ও টেন্ডারবাজির রাজনীতি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না।”
তিনি আরো বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্যাম্পাসগুলোকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। কোনো সংগঠনের কারণেই সেই অর্জন বৃথা হতে দেওয়া হবে না। ছাত্রশিবির থাকতে বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে হল দখলের রাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “হলে থাকা সব শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে উঠেও সিট পাচ্ছে না, অথচ মাস্টার্স শেষ হওয়ার পরও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের পরিচয়ে অনেকে হলে অবস্থান করছেন। এর প্রতিবাদে আমরা বিবৃতি দিলে তারা স্পষ্ট প্রমাণ চেয়েছে। অথচ অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের সুস্পষ্ট প্রমাণ দেওয়ার পরও তারা তা অস্বীকার করে মিথ্যাচার করছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “১৬ জুলাই ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার মধ্য দিয়ে হল দখল, সিট-বাণিজ্য ও গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান ঘটেছিল। নতুন করে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আবারও হল দখল, গেস্টরুম সংস্কৃতি ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরো বলেন, “এই কাজে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করছে। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো, ছাত্রদলের নেতাদের ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার এক বছর বা দেড় বছর পরও তাদের সিট বাতিল করা হচ্ছে না। অথচ দলীয় পরিচয় না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল করা হচ্ছে। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হয়েছে। সুস্থ নীতিমালা প্রণয়ন করে বৈধ পদ্ধতিতে সব শিক্ষার্থীর সিট নিশ্চিত করতে হবে।”
মানববন্ধন থেকে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতা প্রদান এবং আবাসনসংক্রান্ত স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় শাখা ছাত্রশিবির।