৩০ জুন, ২০২৬
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের বাথরুমে পড়ে থাকা স্যুটকেস থেকে জনপ্রিয় মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নাটালিয়া ভিয়ালবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মডেলের মরদেহটি উদ্ধার করেন ফ্ল্যাটের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে এক ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলে ফস্টার-স্মিথকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত ম্যাথিউ ছদ্মনাম ব্যবহার করে জাল পাসপোর্ট দেখিয়ে কলম্বিয়া সীমান্ত পার হয়ে ইকুয়েডরে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর এবং যুক্তরাজ্যের ডরসেট পুলিশের একটি সমন্বিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গত ২৬ জুন ইকুয়েডরের কিতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, নাটালিয়া যখন ফ্ল্যাটে একা ছিলেন তখন অভিযুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তার মরদেহটি একটি ট্রাভেল স্যুটকেসের ভেতরে ঢুকিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা হয়। সিসিটিভি ফুটেজেও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ফ্ল্যাট থেকে বিছানার চাদর ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নাটালিয়া গত ৩ জুন থেকে ওই ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিলেন। ২১ জুনের মধ্যে তা ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসেবে ২২ জুন ফ্ল্যাট পরিষ্কার করতে গেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মডেল নাটালিয়ার মরদেহ দেখতে পান।
গ্রেফতারের মাত্র একদিন আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য সান’-কে অ্যাশলে ফস্টার-স্মিথ বলেন, ‘আমি আইরিশ বারের বড় স্ক্রিনে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ দেখছিলাম। ফলে হত্যাকণ্ডের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি শপিং সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আইসক্রিম কিনেছি। পরে বাকি ম্যাচগুলো দেখার জন্য আবার ফিরে এসেছি।’
তবে ব্রিটিশ পুলিশের তদন্ত রেকর্ড অনুসারে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। ২০২৩ সালে একজনকে উত্যক্ত ও হয়রানি করার দায়ে দুই বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন।