৩০ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ মশা নিয়ন্ত্রণে জৈব লার্ভিসাইড ‘বিটিআই’ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়াতে এবং কম খরচে মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকারের সরাসরি সহযোগিতা চেয়েছে সংস্থাটি। জবাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল চসিককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকালে নগরীর রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু, সিনিয়র পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, ইকোনমিক স্পেশালিস্ট আসিফ আহমেদ এবং কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া। চসিকের পক্ষে মেয়রের সঙ্গে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিটিআই একটি পরিবেশবান্ধব জৈব লার্ভিসাইড, যা এডিস, কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশার লার্ভা ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর। এটি মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সাক্ষাৎকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গত ছয় মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে বিটিআই প্রয়োগ করে আসছে। এর ফলে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের এখানে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১১৩ জনে নেমে এসেছে এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় রয়েছে।’
সরাসরি আমদানির যৌক্তিকতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘এই ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি ও সুলভ মূল্যে বিটিআই সংগ্রহ করতে চাই। এতে মধ্যস্বত্বভোগী বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমবে, চসিকের বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং সময়মতো ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে মার্কিন সহযোগিতা চসিকের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চসিক মেয়রের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জানান, সরাসরি মার্কিন উৎপাদকদের কাছ থেকে চসিক যাতে এই ওষুধ সহজে সংগ্রহ করতে পারে, সে বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন।