০১ জুলাই, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিটি ম্যাচেই যেন এক নাম ঘুরে ফিরে আসছে আর্লিং হলান্ড। গোলের সামনে তার উপস্থিতি মানেই প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ দিকে করা জয়সূচক গোলটি শুধু নরওয়েকে শেষ ষোলোয় তোলেনি, বরং আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে কেন তাকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর গোলশিকারি বলা হয়।
ডালাসে ম্যাচ শেষে এক নরওয়েজিয়ান সমর্থক বিবিসিকে বলেন, "হলান্ড আমাদের কাছে সবকিছু। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সে-ই পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশ্বকাপে ওঠা থেকে শুরু করে আজকের জয় সবকিছুর পেছনেই সবচেয়ে বড় অবদান তার। নরওয়ের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার সে, হয়তো ভবিষ্যতেও এমন আর কেউ আসবে না।"
নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাকেনও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নিজের স্ট্রাইকারকে। তার ভাষায়, "একটি ছোট দেশের হয়ে বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করা অবিশ্বাস্য। বর্তমান ফুটবিশ্বের সেরা গোলস্কোরার হলান্ড। তাকে আমি কারও সঙ্গে বদলাতে চাই না।"
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন হলান্ড। তবে আলোচনার বিষয় শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎও। কারণ তার আন্তর্জাতিক গোলের গতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ফুটবলের সবচেয়ে বড় রেকর্ডগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
মাত্র ৫৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ৬০ গোল করেছেন হলান্ড। অর্থাৎ প্রতি ০.৮৮ ম্যাচে একটি গোল। তুলনায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২৩১ ম্যাচে গোল ১৪৫টি, অর্থাৎ প্রতি ১.৫৯ ম্যাচে একটি গোল।
পরিসংখ্যান বলছে, যদি হলান্ড এই একই গতিতে গোল করতে থাকেন, তাহলে মাত্র ১২৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই তিনি রোনালদোর বর্তমান ১৪৫ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেন। গড়ে বছরে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে, মাত্র ৩২ বছর বয়সেই সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে তার। যেখানে রোনালদো এই রেকর্ড গড়েছেন চল্লিশের কাছাকাছি বয়সে।
আরও অবাক করা একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে বিবিসি। যদি ২০৪০ সাল পর্যন্ত নরওয়ে নিয়মিত বিশ্বকাপ ও ইউরোতে খেলে, হলান্ড সুস্থ থাকেন এবং প্রায় সব আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেন, তাহলে ৪১ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ২৬০ এ পৌঁছাতে পারে।
অবশ্য এটি নিছক একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্ভাবনা। বাস্তবে চোট, ফর্ম, বয়স, নরওয়ের ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা এসব বিষয় বড় প্রভাব ফেলবে। তাই ২৬০ গোলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে না।
তবে একটি বিষয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে গতিতে গোল করছেন হলান্ড, তা আধুনিক ফুটবলে প্রায় নজিরবিহীন। তার বয়স এখনো ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের শুরুতে, আর গোল করার ক্ষুধাও কমার কোনো লক্ষণ নেই।
বিশ্বকাপে নরওয়ের স্বপ্ন এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই এক স্ট্রাইকারের ওপর। আর যদি তিনি বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে শুধু নরওয়ের ইতিহাস নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের গোলের ইতিহাসও নতুন করে লিখতে পারেন আর্লিং হলান্ড।