আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির চুক্তি সম্পন্ন

০২ জুলাই, ২০২৬

উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। সম্প্রতি এশিয়া ও আফ্রিকার ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এসব চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, যৌথ গবেষণা, দ্বৈত ডিগ্রি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া কনভেনশন সেন্টারে ২২ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত ৫ম গ্লোবাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট কংগ্রেস ২০২৬-এ এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

টাইমস হায়ার এডুকেশন আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য আবিদ আজিজ এবং ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাংকিং সেলের পরিচালক শেখ ইয়াসা শান। চার দিনব্যাপী সম্মেলনে তারা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, কৌশলগত আলোচনা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৫টি ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিতাস ব্রাবিজায়া এবং ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ জাকার্তা।

এ ছাড়া চুক্তিবদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ফলিত বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার জন্য পরিচিত ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ আহমদ দাহলান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে অগ্রসর ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ সুরাবায়া, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ রিয়াউ, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ মাকাসার, ইউনিভার্সিতাস ইসলাম আহমদ দাহলান, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ পালেমবাং, ইউনিভার্সিতাস নেগেরি পাদাং, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ পোনোরোগো, ইউনিভার্সিতাস পেনডিডিকান ইন্দোনেশিয়া মুহাম্মাদিয়াহ সোরং, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ বুটন, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ মাগেলাং, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ পালাংকারায়া, ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ জেম্বার এবং ইউনিভার্সিতাস মুহাম্মাদিয়াহ তাঙ্গেরাঙ্গ।

ফিলিপাইনের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সমঝোতা হয়েছে। এগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব দ্য ভিসায়াস, ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিলিপাইনস, ক্যাভিট স্টেট ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন লেইতে স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইলোকোস সুর পলিটেকনিক স্টেট কলেজ এবং আরেকটি ফিলিপাইনের বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সঙ্গে সমঝোতা করেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা, সহ-লিখিত গবেষণা প্রকাশনা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ভিজিটিং স্কলার কর্মসূচি, দ্বৈত ডিগ্রি উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালা যৌথভাবে আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অংশীদারিত্ব উত্তরা ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা এবং একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং সময়ের প্রয়োজন। এসব সহযোগিতা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চা ও টেকসই উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান আরও শক্তিশালী করবে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে অবদান রেখে আসা উত্তরা ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করছে। নতুন অংশীদারিত্বগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

একটি বিষয় নজরে এসেছে। আপনার মূল লেখায় বলা হয়েছে ফিলিপাইনের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, কিন্তু তালিকায় ৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া আছে। প্রকাশের আগে অনুগ্রহ করে অনুপস্থিত ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের নাম যোগ করুন অথবা সংখ্যাটি সংশোধন করুন।