০২ জুলাই, ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের শামলির আলোচিত আয়ুষ মালিক ওরফে মোহাম্মদ আলিকে ঘিরে বিতর্ক ফের নতুন মোড় নিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ছিল তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারও চাপ, প্রলোভন বা জোরাজুরিতে নয়, স্বেচ্ছায়ই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, হিন্দু ধর্মে আর ফিরে যাবেন না। কিন্তু সেই আয়ুষই এবার পৈতৃক বাড়িতে বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়েছেন।
সোমবার পরিবারের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে আয়ুষকে বলতে শোনা যায়, বাবা-মায়ের কষ্ট ও পরিবারের মানসিক অবস্থার কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি দাবি করেছিলেন, ইসলাম গ্রহণ ছিল তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সরব হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়ের ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত ধর্মান্তরের অংশ। সংগঠনগুলোর দাবি, আয়ুষকে ‘ব্রেনওয়াশ’ করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা প্রশাসনের কাছে কঠোর তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ধর্মান্তর বিরোধী আইন প্রয়োগের দাবি জানায়। পরে শামলি ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং মহাপঞ্চায়েত ডাকার উদ্যোগও দেখা যায়।
মুজাফ্ফরনগরের হিন্দুত্ববাদী নেতা স্বামী যশবীর মহারাজ প্রথম থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন। তার প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মান্তরের ঘটনার পেছনে বড় ধরনের একটি চক্র কাজ করছে এবং প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত শামলির একটি ফিজিওথেরাপি কেন্দ্রে। সেখানেই মুসলিম তরুণী চাঁদনি কুরেশির সঙ্গে আয়ুষের পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে চাঁদনিকে বিয়ে করে আয়ুষ ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন মোহাম্মদ আলি। বিষয়টি সামনে আসতেই উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়। আয়ুষের স্ত্রী, শ্বশুর-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে শুরু থেকেই আয়ুষ দাবি করে আসছিলেন, তাকে কেউ ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করেনি এবং তিনি নিজের ইচ্ছাতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
এদিকে, আয়ুষের সাম্প্রতিক ‘ঘরওয়াপসি’র পর কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং কিছু খাপ নেতা প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, আয়ুষ স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তবে মুসলিম সমাজের একাংশ এবং কয়েকজন ধর্মীয় নেতার দাবি, আয়ুষের আগের ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রকাশ্যে একাধিকবার বলেছিলেন যে তিনি নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তখন অল্প সময়ের ব্যবধানে তার অবস্থান বদলে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।
তাদের অভিযোগ, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। ফলে আয়ুষের আগের বক্তব্য এবং বর্তমান অবস্থানের মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি প্রবল পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছেন - সেই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।