০৩ জুলাই, ২০২৬
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি জানান, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
এলাহি বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে ইরানে ছিলাম এবং আমার এমন কিছু বন্ধুর সাথে দেখা করেছিলাম যারা তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে দেখা করেছে। তিনি বাইরে আসতে চান, মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আসতে দিচ্ছে না।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে তার জীবনের বড় ঝুঁকি থাকায় তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
মূলত, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাদের ‘হত্যার তালিকায়’ রয়েছেন।
যদিও কাটজের এই মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব বা জনগণের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।
তবে ইসরায়েলে ক্রমাগত হুমকির কারণেই মূলত তাকে জনসমক্ষে আসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন মোজতবা।
এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে এখন পর্যন্ত মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি। এতে তার অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসন করার ক্ষমতা এখনও অনেকাংশেই একটি রহস্য হয়ে রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘ চার মাস পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী শেষকৃত্য ও দাফন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরান থেকে এই জানাজা কর্মসূচি শুরু হবে। ৬ দিন ধরে বিভিন্ন শহর ঘুরে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে হযরত ইমাম রেজা (আ.) এর মাজারে খামেনিকে সমাহিত করা হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ছয়দিন ব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠান আয়োজনে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।