০৩ জুলাই, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়াকে হত্যায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে জাকির হোসেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মহসিন এর আদালত ১৬৪ ধারায় জাকির হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
একই আদালতে মোতালেব মিয়ার লাশ সড়কের পাশে ফেলে দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ইজিবাইক গ্যারেজ মাহজন সোহেল ও ইজিবাইক চালক ফারুক মিয়াকে দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন। মোতালেব হত্যায় এ পর্যন্ত পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, মোতালেব মিয়ার কাছে দীর্ঘদিন আগে দুই হাজার টাকা ধার নেয় জাকির হোসেন। সেই টাকা দেয়ার কথা বলে মোতালেব মিয়াকে বাসায় ডেকে নেয় জাকির হোসেন। এরপর বাসায় আটকিয়ে মোতালেব মিয়ার কাছে আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোতালেব মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এক পর্যায়ে মোতালেব মিয়ার কাছ থেকে তার বিকাশের পিনকোড নিয়ে ৬৮ হাজার টাকা জাকির তার মোবাইলে ট্রান্সপার করে নেয়। এরপর মোতালেব মিয়ার মৃত্যু হয়। তারপর রাতেই জাকির দুজনের সহযোগীতায় তোশকে পেচিয়ে ইজিবাইকে উঠিয়ে সড়কের পাশে মোতালেব মিয়ার লাশ ফেলে দেয়।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মো. মোতালেব হোসেন (৬১) নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
গত ২ জুলাই ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোতালেব (৬৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শিবপুর এলাকার মৃত. সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্বপরিবারে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ছয় তলায় বসবাস করেন। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় শুক্রবার দুপুরে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন