অধিকৃত ফিলিস্তিনের বিপুল এলাকা দখলের অনুমোদন দিল ইসরায়েল

০৪ জুলাই, ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে আরও ১৩টি ইহুদি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, নতুন বসতি স্থাপনের ফলে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বিভাজন আরও বাড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেম আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

নিউ আরব ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭ এর খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের মধ্যাঞ্চলে বিনিয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চার থেকে ছয়টি নতুন বসতি গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আগে গড়ে ওঠা কয়েকটি বসতি চৌকিকেও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে প্রায় ১ বিলিয়ন শেকেল বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন ও বিদ্যমান বসতিগুলো সরকারি তহবিল এবং সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানির মতো অবকাঠামোগত সুবিধা পাবে। কয়েকটি পশুপালন কেন্দ্রও আনুষ্ঠানিক আইনি স্বীকৃতি লাভ করবে।

ফিলিস্তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর ইসরায়েলি স্টাডিজ (মাদার) বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বছরে গড়ে আটটি বসতি চৌকি স্থাপন করা হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৩২টি, ২০২৪ সালে ৬২টি এবং ২০২৫ সালে ৮৬টিতে পৌঁছেছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বসতি সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নও বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ খাতে ২ কোটি ৮০ লাখ শেকেল এবং ২০২৪ সালে ৭ কোটি ৫০ লাখ শেকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও ৭০টি বসতি চৌকিতে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর দখল করা পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে বর্তমানে সাত লাখের বেশি ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বাস করছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, বসতি সম্প্রসারণের ফলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতেও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের এসব বসতির কোনো আইনি বৈধতা নেই।