‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয়’, পিডিকে প্রশ্ন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

০৪ জুলাই, ২০২৬

দীর্ঘ ১৩ বছরেও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় তদন্তে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয় তোমার?’

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের কথা তদন্ত কমিটিকে জানান।

পরিদর্শনের সময় সড়কের একপাশে স্লুইসগেটের সামনে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ রাখার বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয় তোমার? তুমি এখান থেকে পানি বের হওয়ার রাস্তা তৈরি করেছ। পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য স্লুইসগেট করেছ। আবার তার সামনে দিয়ে রেখেছ বাঁধ। এর মানেটা কী?’

পরে তিনি সড়কের বিভিন্ন অংশ ও বাঁক পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৭ মে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। পরে ২০২০ সালের ২১ জুলাই দ্বিতীয় দফা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ২৫৯ কোটি টাকা করা হয় এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর চলতি বছরের ৯ জুন প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়িয়ে ২৮০ কোটি টাকার তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৩ বছরেও প্রকল্প শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের দায় নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২৮০ কোটি টাকার সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কেন সড়কটির কাজ এতদিনেও শেষ হয়নি, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি কী এবং নির্মাণকাজের মান কেমন—এসব বিষয় আমরা পরিদর্শন করেছি। দ্রুত যাতে কাজটি সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

পরে খুলনা সার্কিট হাউসে ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।