চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে বৈঠকে বসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

০৫ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী দফার কৌশলগত (টেকনিক্যাল) আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। 

সূত্রগুলোর মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই নতুন করে এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, কৌশলগত বৈঠকের জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান বিবেচনায় রয়েছে—ইসলামাবাদ এবং সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্ট। তবে ইসলামাবাদেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আগামী ১১ জুলাই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ভেন্যু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং লেবাননে সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।

দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ জুলাইয়ের বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ।

তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায় উপলক্ষে কয়েক দিনের জন্য আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে।  ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানাজা ও দাফন শেষ হওয়ার পর তেহরানের প্রতিনিধি দলের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেন।  অন্যদিকে ইরান দাবি করে, বিদেশে জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আলোচনায় বিরতির সময়ও কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এ সময় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সুইজারল্যান্ডে জুন মাসের আলোচনার পর হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয় নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, দীর্ঘ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা শেষ হলে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে দোহায় দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।