সন্দেহের ভার সইতে না পেরে নারীর আত্মহত্যা

০৫ জুলাই, ২০২৬

একজনের মরদেহ মিলেছিল বাড়ির উঠানে। আরেক জনের মৃত্যু হলো নিজের ঘরে। মাঝখানে ছিল মাত্র চার দিনের ব্যবধান। কিন্তু এই চার দিনেই একটি গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে সন্দেহ, গুঞ্জন আর অপবাদের বোঝায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুলারামপুর গ্রামে বৃদ্ধা ফুল মেহের (৭৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো অন্ধকারে। সেই রহস্যের জট খোলার আগেই আত্মহত্যা করেছেন মিনা বেগম (৪৫), যার বাড়িতে হত্যার আগের দিন দুপুরে খাবার খেয়েছিলেন ফুল মেহের।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সোনারামপুর ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামে চালের পোকা মারার ট্যাবলেট (কেঁরির বড়ি) খেয়ে আত্মহত্যা করেন মিনা বেগম। তিনি ওই গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে সবার অজান্তে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন মিনা বেগম। পরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয় ফুল মেহেরের মরদেহ।

গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচানো ছিল। পরিবারের অভিযোগ, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোস্তাফা কামাল বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে উঠে আসে, মৃত্যুর আগের দিন দুপুরে ফুল মেহের মিনা বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে খাবার খেয়েছিলেন। এরপর থেকেই নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই গ্রামের অনেকেই মিনা বেগমকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা মন্তব্য করতে থাকেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

স্বামী চাঁন মিয়ার ভাষ্য, হত্যার পর থেকে প্রতিদিনই কেউ না কেউ বাড়িতে এসে মিনাকে প্রশ্ন করতেন। কেউ সন্দেহ প্রকাশ করতেন, কেউ সরাসরি কটূক্তি করতেন। অপবাদ আর মানসিক চাপই তাকে ভেঙে দেয়।

মেয়ের জামাই মাইনুদ্দিন খান বলেন, "আমার শাশুড়িকে মানুষ প্রতিদিন অপমান করত। তিনি এসব সহ্য করতে পারছিলেন না। শুক্রবার পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন। " তিনি বলেন, "আমরা চাই প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হোক। কেউ যেন গুজবের শিকার না হয়। "

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক হতাশা ও অভিমান থেকেই ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত ও ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।