রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

০৬ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় জমির মালিকানা ও সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন মো. রাসেল আহম্মেদ জানান, বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাপান গার্ডেন সিটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই জমিতে ইমামের কয়েকজন আত্মীয় বসবাস করতেন। রোববার বিরোধ নিষ্পত্তির কথা থাকলেও আলোচনার আগেই প্রতিপক্ষ রুবেল, তন্ময় ও সাগর নামে তিনজনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাসেলের দাবি, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়। এতে তাদের পক্ষের পাঁচজন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তারা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলায় বসিলা এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু এবং মহানগর বিএনপির সদস্য ও মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহম্মেদ হাজী ও তার অনুসারীরা জড়িত। তার ভাষ্য, জাহিদ, জাবের আলাউদ্দিন ও জাফর হামলার নেতৃত্ব দেন। তারা আহম্মেদ হাজীর ভাতিজা। জাফর বসিলা উত্তরমুড়া ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আহম্মেদ হাজী। তিনি বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য তিন দিন আগে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ইমামের পাওনা জমির একটি অংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দেওয়া এবং চার কাঠা জমি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

তার দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে পাঁচজন ব্যক্তি একটি টাইলসের দোকানে গিয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা একজনকে বের করে আনেন। খবর পেয়ে তার পাঁচ ভাতিজা সেখানে গেলে তারা দুজনকে আটক করেন, আর বাকি তিনজন পালিয়ে যান। পরে রাসেল ও কবিরসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে তার ভাতিজাদের ওপর হামলা চালান। এতে তার চার ভাতিজা ও এক নাতি আহত হন। এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আহম্মেদ হাজী আরও বলেন, ঘটনার পর তার কার্যালয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের উপস্থিতিতে সমঝোতার বৈঠক হয়। তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং পরে বিষয়টি জানতে পারেন।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।