০৬ জুলাই, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসায় এক শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে মাদরাসার মোহতামিম (প্রিন্সিপাল) আবু তাহের জিহাদী, ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকনসহ কয়েকজনকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদরাসার প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর মোহতামিম আবু তাহের জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
জানা যায়, মাদরাসার শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জেরে দুপুর থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, মুফতি হারুন অর রশিদের সমর্থকরা শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তোলেন। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় প্রবেশ করে মোহতামিম, সাধারণ সম্পাদক এবং পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। এ সময় মাদরাসার সামনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন।
বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য দেওভোগ এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলও বন্ধ করে দেন।
বিকেলে ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা জাকির খান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফেরদৌস এবং মুফতি হারুন অর রশিদ উপস্থিত হন। পরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, স্থানীয় আলেম-উলামা ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মোহতামিম আবু তাহের জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং অবরুদ্ধ অবস্থারও অবসান ঘটে।
মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি মাদরাসায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি কমিটি গঠনের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান এবং একটি পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ সংকট আরো গভীর হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগেই মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, দিনভর পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।