০৬ জুলাই, ২০২৬
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নেওয়ায় ভারত সরকার ও জনগণকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস। একে দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস ভারতের সরকারি প্রতিনিধিদলসহ রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা ও বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন।
এ ছাড়া প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশিদও খামেনির জানাজায় যোগ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয়দের এই সহানুভূতি ও বন্ধুত্বের নিদর্শন ইরানের জনগণ সর্বদা স্মরণ করবে।
এদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনির জানাজায় যাতে বিশ্বনেতারা অংশ না নেন, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা জানাজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের তেহরানে যেতে নিষেধ করেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিছু দেশকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, তেহরানে প্রতিনিধি পাঠালে মার্কিন উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই চাপের মুখে অন্তত ১৩টি দেশ (যার মধ্যে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার দেশ রয়েছে) শেষ মুহূর্তে জানাজা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় অথবা প্রতিনিধির সংখ্যা কমিয়ে দেয়। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শেষ বিদায় অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বলেন, এটি খামেনিকে বিদায় জানানো নয়, বরং তার দেখানো পথচলা অব্যাহত রাখার একটি অঙ্গীকার।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েল ও তার মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই সংঘাত বরং মুসলমানদের আরো কাছাকাছি এনেছে এবং শত্রুদের মানবাধিকারের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।