০৬ জুলাই, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে চালু হওয়া মিম কয়েনে বিনিয়োগ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ বিনিয়োগকারী। একটি ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৫টি বিনিয়োগকারী হিসাব লোকসানে রয়েছে। অর্থাৎ, এই মিম কয়েনে বিনিয়োগকারীদের প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুজনই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন দিন আগে ট্রাম্প এই মিম কয়েনের ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরপরই এটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তবে সেই উচ্ছ্বাস বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে কয়েনটির দাম নেমে এসেছে ১ দশমিক ৬৯ ডলারে। অথচ একসময় এর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৭৫ দশমিক ৩৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ দামের তুলনায় কয়েনটির মূল্য কমেছে প্রায় ৯৮ শতাংশ।
এর আগে ট্রাম্প তার ছেলেদের নিয়ে ডিজিটাল মুদ্রাভিত্তিক আরেকটি উদ্যোগও শুরু করেছিলেন। সেই প্রকল্পের মুদ্রার মূল্যও পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়লেও ট্রাম্পের আয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি। সম্প্রতি প্রকাশিত তার আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, শুধু এই মিম কয়েন থেকেই তিনি ৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন। গত বছর ডিজিটাল মুদ্রা খাত থেকে তার মোট আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই কয়েন থেকে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা মিম কয়েনকে সিকিউরিটিজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করবে না। পাশাপাশি কয়েকটি ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানায়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ডিজিটাল মুদ্রার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।