উত্তরাঞ্চলে কৃষি অর্থনীতি জোরদারে ৩০০০ কোটি টাকার তহবিল

০৬ জুলাই, ২০২৬

দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোতে কৃষি উৎপাদন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতেই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ তহবিলের আওতায় বিতরণ করা ঋণ সম্পূর্ণ নতুন ঋণ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পুরোনো ঋণ সমন্বয়, পুনঃতফসিল বা চলমান ঋণের দায় সমন্বয়ে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া কোনো ব্যাংক নির্ধারিত সুদ সীমার বেশি সুদ আদায় করলে বা পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার অপব্যবহার করলে অপব্যবহৃত অর্থের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে দণ্ডসুদ আরোপ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। উত্তরবঙ্গ দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল হলেও আধুনিক ফসল-উত্তর ব্যবস্থাপনা, বাজারজাতকরণ অবকাঠামো, বিশেষায়িত হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত এ তহবিলের মেয়াদ হবে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। এ তহবিলের সুবিধা শুধু উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

তহবিলের অর্থ চারটি মূল খাতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ কৃষি উৎপাদন খাতে, ৩৫ শতাংশ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে, ৩৫ শতাংশ কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে এবং বাকি ১৫ শতাংশ কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতে ব্যয় করা হবে।

এ তহবিলের আওতায় ব্যক্তি, দলবদ্ধ গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়া হবে। কৃষি উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা, কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়া যাবে। প্রয়োজন হলে গ্রাহকের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো এ সীমা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন পাবে এবং তারা ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৯ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এ হার ৯ শতাংশের বেশি হবে না।

ঋণ বা বিনিয়োগের মেয়াদের ক্ষেত্রে কৃষি উৎপাদন খাতে ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৮ মাস এবং সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি খাতে ৩ থেকে ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ৩৬ মাস মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করতে প্রচলিত স্থাবর সম্পত্তির জামানতের পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলগত জামানতের মতো বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে, ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত গ্রাহকরা এ তহবিলের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ তহবিলে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে সার্কুলার জারির পরবর্তী ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।