বালু উত্তোলনবিরোধী মানববন্ধনে হাজির রুমিন ফারহানা

০৭ জুলাই, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে চর সোনারামপুরবাসীর চলমান আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি উপস্থিত হন।

এসময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের নামে ইজারা নিয়ে আশুগঞ্জ অংশে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। রুমিন ফারহানা বিষয়টি সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।

এর আগে দুপুরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী চরসোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজার নামে ইজারা নেওয়া হলেও বাস্তবে আশুগঞ্জের চরসোনারামপুর ও সোহাগপুর অংশে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। একইসঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বণ্টন করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

চর সোনারামপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়ক অবরোধের পর প্রশাসন আশ্বাস দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ড্রেজার চলতে শুরু করে। আমাদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শীতল কুমার দাস বলেন, এভাবে চলতে থাকলে চরসোনারামপুর, আশুগঞ্জ বাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নদী তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়বে। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর লাভবান হচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ২০ একরের বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি, মসজিদ, শ্মশান, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো চরসোনারামপুর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনের শেষ দিকে সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ইতোপূর্বে একাধিকবার সংসদে কথা বলেছি। অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে যারা বিপর্যয় সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনারা আমাকে একটি লিখিত অভিযোগ দিন। আমি বিষয়টি সংসদের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবো।

এ সময় তিনি চর সোনারামপুরসহ আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট বালু সিন্ডিকেটের প্রতি আহ্বান জানান।