০৭ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশে স্নাতকোত্তর যোগ্যতাধারীদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত না হওয়া সত্ত্বেও ডাক্তাররা বিভিন্ন যোগ্যতা উল্লেখ করে থাকেন, যার মাঝে পিজিটি, ফেলো ডব্লিউ এইচও, ইওসি বহুল ব্যবহৃত। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে তাদের দ্বারা স্বীকৃত নয় এমন যোগ্যতা ব্যবহার না করার। বেশি যোগ্যতা সম্পন্নদের সাধারণ মানুষ বড় ডাক্তার ভেবে থাকেন এমন ধারণা থেকে রোগী আকৃষ্ট করার বাসনাই এরূপ অপব্যবহারের অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশে স্নাতকোত্তর যোগ্যতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান দুইটি-বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ এন্ড সার্জনস্ (বিসিপিএস) ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। বিসিপিএস প্রদত্ত যোগ্যতা দুই ধরনের-এমসিপিএস (মেম্বার অব কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ এন্ড সার্জনস্) ও এফসিপিএস (ফেলো অব কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ এন্ড সার্জনস্)। ১৬ টি বিভিন্ন বিষয়ে এমসিপিএস প্রদান করা হয়। পক্ষান্তরে ২৭ টি সাধারণ বিষয়ে ও ৩৮ টি বিশেষায়িত বিষয়ে এফসিপিএস প্রদান করা হয়। বিএমইউ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা (যেমন, ডিজিও-ডিপ্লোমা ইন গাইনোকোলজি এন্ড অবসটেটিক্স; ডিও- ডিপ্লোমা ইন অফথালমোলজি; ডিএ- ডিপ্লোমা ইন এ্যানেসথেসিওলজি ইত্যাদি) ও ডিগ্রি (যেমন, এমডি, এমএস, এমফিল, মাস্টার্স ইত্যাদি) প্রদান করে থাকে। এমডি প্রদান করা হয় ৪০ টি বিষয়ে, এমএস দেওয়া হয় ৩০ টি বিষয়ে, এম.ফিল দেওয়া হয় ৬ টি বিষয়ে, ডিপ্লোমা দেওয়া হয় ১৮ টি বিষয়ে, এমপিএইচ দেওয়া হয় ৬ টি বিষয়ে ও এম.এড দেওয়া হয় ১ টি বিষয়ে। এই হরেক ধরনের যোগ্যতার সমাহারে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ। যেমন কেউ যদি এমসিপিএস ও ডিপ্লোমা দুইটা যোগ্যতা সম্পন্ন হন, তিনি কি একটিমাত্র যোগ্যতা যেমন, এমডি বা এফসিপিএস-এর চাইতে বেশি বা কম যোগ্যতা সম্পন্ন। অন্যত্রও রয়েছে সমস্যা। ডাক্তারদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে যেমন জুনিয়র বা সিনিয়র কনসালটেন্ট অথবা সহকারী/সহযোগী/অধ্যাপক পদের জন্য চার ধরনের যোগ্যতার মাঝে কোনটি কখন গ্রহণযোগ্য আর কখন কাম্য নয় তা নিয়ে রয়েছে এক ধরনের বিভ্রান্তি। অস্পষ্টতার সুযোগে স্থান করে নিচ্ছে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, দলকানা সিদ্ধান্ত। যোগ্যরা বঞ্চিত হয়ে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশ বঞ্চিত হচ্ছে যোগ্যতরদের সেবা থেকে-স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই।
ভারতেও প্রচলিত আছে ডিপ্লোমা ও এমডি/এমএস কোর্সসমূহ। ঐ দেশের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পর আর ডিপ্লোমা কোর্স থাকবে না। ডিপ্লোমা সিটগুলো এমডি/এমএস কোর্সে রুপান্তরিত হবে। এই উদ্যোগ একটি একক ডিগ্রী কাঠামোর সাথে সংগতিপূর্ণ। এর ফলে সেখানে স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা আরও সুসংহত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ডিপ্লোমা ও এমডি/এমএস কোর্স একসাথে চালু থাকার ফলে ডিপ্লোমাধারীগণ বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। শিক্ষকতার পদের ক্ষেত্রে তারা এমডি/এমএস ধারীদের সাথে অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বাংলাদেশেও স্নাতকোত্তর যোগ্যতার এই বিচিত্রতা থেকে বেরিয়ে একক কাঠামোতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। এর ফলে রোগীরা যেমন বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি স্নাতকোত্তর যোগ্যতাধারীগণ একটি সুস্পষ্ট কর্মজীবনের পরিকল্পনা পাবেন।
অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ