০৭ জুলাই, ২০২৬
আগামী ৫ আগস্টের আগেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। জাদুঘরের কিছু চূড়ান্ত কাজ এবং জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "জুলাই জাদুঘর নিয়ে কাজ চলছে। কিছু চূড়ান্ত কাজ বাকি রয়েছে এবং জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক বিষয় সম্পন্ন করা হচ্ছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।"
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও তুরস্ক সফর করবেন কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাওয়া হবে, এখানে জাতীয় স্বার্থই মূল বিবেচ্য।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ইপিজেড (রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল) রয়েছে। পাশাপাশি সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন একটিমাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তাই এখন রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানির অনুমোদন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা ব্যাখ্যা দেন, বিষয়টি বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর আলোচনায় কিছু পণ্য বেশি পরিমাণে কেনার সমঝোতা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের এই খাত এবং দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত। গার্মেন্টস খাত সচল থাকলে তার সুফল সামগ্রিক অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।