০৭ জুলাই, ২০২৬
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইস্যুকৃত ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে চেক জালিয়াতির মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম। পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত।
তার বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে। নূর ইসলামের বাড়ি ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামে এবং ফিরোজের বাড়ি পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনওর স্বাক্ষর নেয়ার পর চেকের মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানও পরিবর্তন করা হতো। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। একই বছরের মার্চ মাসে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত তিনজনকে কার্যালয়ে ডেকে এনে ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, চেক জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম এবং সদ্য বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জালিয়াতির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সরকারি অর্থ উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং আত্মসাত হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।