নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ১৩ বছর পর মিলল বাবার পরিচয়

০৮ জুলাই, ২০২৬

 

নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলার রায়ে হেলাল মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল দিয়েছে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। সাজাপ্রাপ্ত হেলাল মিয়া জেলার বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে।  

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) বিচারক ড. এমদাদুল হক এ রায় দেন।

এই রায়ের মাধ্যমে ১৩ বছর পর বয়সে পিতৃপরিচয় মিলেছে শিশুর।  

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে একটি শিশু পিতৃপরিচয়ের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আদালতে ডিএনএ পরীক্ষা নিশ্চিতসহ ১০ জন সাক্ষীর পরিপ্রেক্ষিতে এই সাজার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। শিশুটি এখন পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হবে।

শিশু জন্মের ১৭ দিন পর তার মা এই মামলার বাদী মারা যাওয়ায় শিশুটির বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন ছিল না।  

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বারহাট্টা উপজেলার স্বল্প দশাল গ্রামের এক গৃহকর্মীকে তার বসতঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী হেলাল মিয়া। তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ওই গৃহকর্মী বিষয়টি চেপে গেলেও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্বজনদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিবেশীরা ঘটনা জানলে মীমাংসার মাধ্যমে গর্ভপাত করাতে চেষ্টা করেন অভিযুক্ত।

ওই নারীর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা নারী। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ওই বছরের ১১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। এদিকে ওই নারী কন্যা শিশু জন্মদানের পর ১৭ দিনের মাথায় নারীর মৃত্যু হয়।  

এদিকে বেচে থাকা শিশুটি খালাসহ আত্মীয় স্বজনদের কাছে লালিত পালিত হয়। এভাবে কেটে যায় ১৩টি বছর।

এর মাঝে আসামি হেলাল মিয়া আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ তদন্ত সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণে যুক্তি তর্কের সময় আদালতে উপস্থিত হলে গত দেড়মাস আগে বিচারক কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার ডিএনএ পরীক্ষাসহ সব প্রমাণ আমলে নিয়ে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা দেন।