০৯ জুলাই, ২০২৬
ম্যাচের আগের দিন সাধারণত প্রেস কনফারেন্স হয় স্থানীয় সময় দুপুরে। তবে বোস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রেস কনফারেন্স সকাল সাড়ে দশটায় নির্ধারণ করেছে ফ্রান্স ফুটবল দল। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রেস কনফারেন্স কাভার করতে তাই আগের রাতেই বোস্টন পৌঁছানো।
ঘুম থেকে উঠেই প্রেস কনফারেন্স ধরার তাড়া। তাই ট্রেন-বাসের বদলে খানিকটা ব্যয়বহুল উবার নেয়া। প্রেস কনফারেন্স শুরুর মিনিট পনেরো আগেই স্টেডিয়ামে গেটে পৌঁছানো। মিডিয়া গেটে প্রবেশ করতেই বিপত্তি। স্ক্যানের পর রেড সিগন্যাল। অনেক সাংবাদিকই আকস্মিকভাবে এই সমস্যায় পড়েছে। সিকিউরিটি ও ভলান্টিয়ারদের পরামর্শ অ্যাক্রিডিটেশন সেন্টারে যাওয়ার।
সকাল মাত্র সোয়া দশটা হলেও তীব্র রোদ। স্টেডিয়ামের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে হেটেই যেতে হয়েছে। অ্যাক্রিডিটেশন সেন্টারে স্ক্যানে আবার সবুজ সিগন্যাল। অন্য স্ক্যানারে লাল কেন, সেটা তাদের বোধগম্য নয়। তাই এক ভলান্টিয়ার তার স্ক্যানার নিয়ে মিডিয়া গেটে সাংবাদিকদের নিয়ে এলেন। এবার অবশ্য সবুজই শো করেছে।
সমস্যা সমাধান হওয়ায় এই প্রতিবেদকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক খানিকটা হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। এরপর যে আসল ভোগান্তি অপেক্ষা সেটা কে জানত! ঘড়ির কাটা সাড়ে দশটা ছুঁই ছুঁই। তাই এই প্রতিবেদক সহ ব্রাজিলিয়ান দুই নারী সাংবাদিক দৌড়ের ছলে হাটছেন। কয়েকশ মিটার হাটার পরও চোখে মিলছে না প্রেস কনফারেন্স রুম কিংবা ভলান্টিয়ার। কিছুক্ষণ পর এক স্টাফকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, নিচে নেমে একটু সামনে। দ্রুত গতিতে নিচে নেমে সামনে গেলে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। সেখানে বয়স্ক এক স্টাফ বললেন, ‘আরও সামনে গিয়ে বামে, এরপর ডানে।’
মিনিট বিশেক হাটার পর অবশেষে পাওয়া গেছে প্রেস কনফারেন্স বিল্ডিং। সেই ভবনে ঢোকার পর রুম পর্যন্ত যেতে আরও প্রায় মিনিট চারেক। সরু লাইন দিয়ে একের পর এক আকাঁ-বাঁকা। প্রতি বাকেই আমেরিকার সুপার বোলের ইতিহাস ও সাফল্য। প্রেস কনফারেন্স কাভারের তাড়া থাকায় সেদিকে ভালো করে চোখ বুলানোর সুযোগ ছিল না। এত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে প্রেস কনফারেন্স রুমে উপস্থিত হয়ে দেখা গেল শ’দেড়েক আসন পরিপূর্ণ। তাই দাঁড়িয়েই থাকতে হলো। দেশমের প্রেস কনফারেন্স মিনিট পাচেক পাওয়া এই প্রতিবেদক ও দুই ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকের অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস। সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই সাংবাদিকদের অনেকেই প্রেস কনফারেন্স রুম খুঁজে পেতে গলদঘর্ম হওয়া নিয়ে আলোচনা।
প্রেস কনফারেন্স কাভার করে বের হওয়ার সময় খানিকটা সময় নিয়ে সুপার বোলের ইতিহাস-সাফল্য এবং কীর্তিমানদের দেখা হয়েছে। নিউ ইংল্যান্ড প্যাটট্রিয়সের হোম ভেন্যু বোস্টন। তাদের সুপার বোলে চ্যাম্পিয়নের কীর্তি এবং নানা দশকে ঘটে যাওয়া ঘটনা সুন্দরভাবে উপস্থাপন রয়েছে দুই পাশের দেয়ালে। কিংবদন্তীদের জন্য আলাদা করে হল অফ ফেমও রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লেখা একটি প্লেটের উপর যারা চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য তাদের নামও খোদাই করা।
প্রেস কনফারেন্স কাভারের পর সাংবাদিকদের দ্রুত নিউজ লেখা ও প্রচারের তাড়া থাকে। বিশ্বকাপে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের সাংবাদিকই আসেন। স্বাগতিক দেশের সঙ্গে অনেক দেশের সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টারও বেশি হয়। ফলে সাংবাদিকদের কাছে প্রতি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেস কনফারেন্স শেষ করে মিডিয়া সেন্টারে যেতে আবার মিনিট দশেকের হাটা। নিউ জার্সিতে মিডিয়া সেন্টারের মধ্যেই এক অংশ প্রেস কনফারেন্স কক্ষ। সাধারণত মিডিয়া সেন্টার ও প্রেস কনফারেন্স কক্ষ খুব লাগোয়া হয়। বোস্টনে অনেকটাই ব্যতিক্রম।