০৯ জুলাই, ২০২৬
২০১০ সালে চালুর পর স্থাপত্যশিল্পের ধারণাই বদলে দিয়েছিল দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। ৮২৮ মিটার উচ্চতার এই স্থাপনাটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের স্বীকৃতি পায়। এবার দুবাইয়ের সেই রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটিতে নির্মাণাধীন ‘জেদ্দা টাওয়ার’ হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম এক কিলোমিটার উঁচু ভবন।
বিস্ময়কর এই দুটি ভবনের পেছনেই রয়েছেন একজন মানুষ। তিনি হলেন মার্কিন স্থপতি আদ্রিয়ান স্মিথ। নিজের ক্যারিয়ারে আকাশচুম্বী ভবনের নকশা তৈরিতে একের পর এক সীমা পার করেছেন তিনি।
আদ্রিয়ান স্মিথ আধুনিক যুগের অন্যতম প্রভাবশালী স্থপতি। ১৯৬৭ সালে তিনি বিখ্যাত ফার্ম স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম)-এ যোগ দেন। সেখানে প্রায় চার দশক ধরে তিনি বিশ্বের কিছু চেনা ভবনের নকশা করেন।
চীনের জিন মাও টাওয়ার, নানজিংয়ের জিফেং টাওয়ার এবং শিকাগোর ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনালের মতো ভবনের নকশা করেছেন তিনি। তবে বুর্জ খলিফার নকশাই তাকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্থপতির মর্যাদা এনে দেয়। ২০০৬ সালে তিনি নিজের নতুন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন।
বুর্জ খলিফার বাতাস ঠেকানোর কৌশল
বুর্জ খলিফার উচ্চতা নজর কাড়লেও এর মূল সাফল্য বাতাসে। ভবন যত উঁচু হয়, বাতাসের ধাক্কা তত বাড়ে। আদ্রিয়ান স্মিথ এই সমস্যার এক অভিনব সমাধান বের করেন।
আঞ্চলিক স্পাইডার লিলি ফুলের আদলে তিনি ভবনটির ওয়াই (Y) আকৃতির নকশা করেন। ভবনটি ওপরের দিকে ওঠার সময় এর তিনটি ডানা বিভিন্ন স্তরে ছোট হয়ে আসে। এর ফলে বাতাস কখনো একনাগাড়ে আঘাত করতে পারে না।
প্রকৌশলীরা একে বলেন ‘বাতাসকে বিভ্রান্ত করা’। এই কৌশলের কারণেই বুর্জ খলিফা অত উঁচুতে টিকে আছে।
এক কিলোমিটারের নতুন মাইলফলক
আদ্রিয়ান স্মিথের নতুন চ্যালেঞ্জ আরও বড়। সৌদি আরবে নির্মাণাধীন জেদ্দা টাওয়ার উচ্চতায় এক কিলোমিটার বা এক হাজার মিটার ছাড়িয়ে যাবে। এই বহুমুখী ভবনে থাকবে বিলাসবহুল আবাসন, অফিস, হোটেল এবং বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্যবেক্ষণ ডেক।
বাতাসের চাপ কমাতে এই ভবনের নকশাও ওপরের দিকে সরু করা হয়েছে। তবে এর অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে মরুভূমির কচি উদ্ভিদের পাতা থেকে।
২০১৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও মাঝে কয়েক বছর বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণ শেষ হলে এটি বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ স্থান দখল করবে। এর মাধ্যমে আদ্রিয়ান স্মিথ নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভাঙতে যাচ্ছেন।