বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

০৯ জুলাই, ২০২৬

 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সৎ ছেলের বিরুদ্ধে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়াসহ নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) সকালে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বৃদ্ধা মা ছেলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু পর ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক জহুরুল মাস্টারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।

তবে স্বামীর প্রথম পক্ষের ছেলে মো. কবির উদ্দীন মিঠু শুরু থেকেই তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতো এবং বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন চালাতো।  

তিনি আরও দাবি করেন, তার স্বামীকে চিকিৎসার নামে জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাদের কোনো সন্তান না হয়। এছাড়া প্রায় পাঁচ বছর আগে সকালে কিছু ওষুধ খাওয়ানোর পর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ওই দিন রাতেই মারা যান। এ ঘটনাকে ঘিরে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ ছেলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। তার ঘরে থাকা নগদ টাকা, ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। এছাড়া বাড়ির টিউবওয়েল, বাথরুম ব্যবহার করতে বাঁধা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে স্বামীর ভিটাছাড়া করা হয়েছে।  

বৃদ্ধা জানান, বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ থানার ফয়লা মাস্টারপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়টিয়া হিসাবে বসবাস করছেন।

তার দাবি, স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে তাকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করে এককভাবে ভোগদখল করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। বরং তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তার বয়স ৬০ বছরের বেশি। তিনি নিঃসন্তান, অসহায় এবং উপার্জনক্ষম নন।

আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তার আর্থিকভাবে চরম কষ্ট হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার স্বামীর সম্পত্তিতে আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠুর বলেন, উনি সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়, উনি আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাদের এখানে জমি আছে মাত্র ৩ শতক। উনাকে থাকার জন্য একটি ঘর দিয়েছি। উনি সেখানে থাকেন না। আর এসব বিষয় নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। উনি যে রায়ের কথা বলছেন, সেটা আদালত থেকে উনাকে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এটা অনেক পুরাতন কাহিনী, সাবেক এমপিসহ অনেকেই এই বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশ করেছেন। তবুও কোন সমাধান উনি মানেন বলেও জানান তিনি।