১০ জুলাই, ২০২৬
আগামী ৭ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের সকল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস ও সম্মান), প্রফেশনাল কোর্সগুলো এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের এতে অংশ নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিযোগিতার সম্পূর্ণ নীতিমালা ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগামী ১২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ইভেন্ট ভিত্তিক আলাদা তালিকা প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে কলেজ লগইনের মাধ্যমে তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে জেলা পর্যায়ের ফিক্সচার তৈরি করা হবে এবং মূল প্রতিযোগিতা শুরু হবে ৭ আগস্ট থেকে, যা চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিভাগীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সময় ও তারিখ পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতায় একক ও দলীয় মিলে মোট ১২টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। একক ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে দেশাত্মবোধক গান, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, আধুনিক গান, লোকগীতি, আবৃত্তি, অভিনয়, নৃত্য এবং উপস্থিত বক্তৃতা।
আর উপস্থিত বক্তৃতার জন্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘সুশাসনের বাংলাদেশ’, ‘সভ্যতার অগ্রগতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ ও ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বৃক্ষরোপণ’-এর মতো সমসাময়িক ৮টি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দলীয় ইভেন্টে অনূর্ধ্ব ৫ জনের গণসংগীত ও সৃজনশীল নৃত্য এবং ৩ জনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিতর্কের জন্য সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও গণতন্ত্র কেন্দ্রিক অত্যন্ত চমৎকার ৮টি বিষয় রাখা হয়েছে।
তবে প্রতিযোগিতার সুনির্দিষ্ট নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোনো সংগীত, অভিনয়, নৃত্য, আবৃত্তি বা পংক্তিমালা প্রতিযোগিতায় প্রদর্শন বা অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ ৩টি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে। কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে, অনিয়মিত কিংবা প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশনধারী কোনো শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে না। তবে ১ম বর্ষের যারা এখনো রেজিস্ট্রেশন কার্ড পায়নি, তারা ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর ও অধ্যক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অংশ নিতে পারবে।
এছাড়া জাতীয় মাদকবিরোধী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক, প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে সব প্রতিযোগী ও সংশ্লিষ্টদের বাধ্যতামূলকভাবে মাদকবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করাতে হবে।
প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি কলেজ এবং ৮টি বিভাগে ৮টি কলেজকে ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের ভেন্যুগুলোর মধ্যে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ, গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ও ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজসহ ৬৪টি শীর্ষস্থানীয় কলেজ রয়েছে।
অপরদিকে বিভাগীয় ভেন্যু হিসেবে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ, চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ (ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ), রাজশাহীর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ এবং খুলনার সরকারি মহিলা কলেজসহ মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই প্রতিযোগিতা পরিচালনার সম্ভাব্য ব্যয় নির্বাহের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে ভেন্যু কলেজগুলোকে আর্থিক থোক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে কোনো ভেন্যুতে প্রতিযোগীর সংখ্যা ১৫০ জনের কম হলে কিংবা কমপক্ষে ৬টি ইভেন্টে একাধিক প্রতিযোগী না থাকলে সেই ভেন্যুটিকে পার্শ্ববর্তী জেলা ভেন্যুর সাথে সংযুক্ত করা হবে।
বিভাগীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগী ও কলেজ প্রতিনিধিদের যাতায়াত ও অন্যান্য সম্মানী নির্ধারিত ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে পাঠানো হবে, কোনো নগদ লেনদেন করা হবে না। জেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের সনদ এবং বিভাগীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ের বিজয়ীদের আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে একক ইভেন্টের প্রথম স্থান অধিকারী এবং বিতর্কের চ্যাম্পিয়ন দল চূড়ান্ত পর্বে লড়ার সুযোগ পাবে।