২৪ ঘণ্টায় ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সরিয়ে নিল ইরান

১০ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অবরোধের হুমকির মুখে গত ২৪ ঘণ্টায় তড়িঘড়ি করে প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরিয়ে নিয়েছে ইরান। পাঁচটি সুপারট্যাঙ্কার ও একটি সুয়েজম্যাক্স জাহাজে করে এই বিপুল পরিমাণ তেল দেশটির বন্দরগুলো থেকে রওনা হয়েছে বলে ব্লুমবার্গের ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং তথ্যে জানা গেছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজ ওমান উপসাগরে এবং একটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সংকেত দিয়েছে।

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও রেলসেতু লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দিনের মতো সামরিক হামলার পরপরই এই পদক্ষেপ নিল তেহরান। ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৭৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল স্থবির হয়ে যেতে পারে। সামরিক উত্তেজনার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে।

চলতি সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় নয় শতাংশ বেড়ে বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭৯ ডলারে।

অবশ্য তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নেওয়া এই ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের কোনো ক্রেতা আগে থেকে নির্ধারিত আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে কাতার ও সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি জাহাজে ইরানি হামলার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত একটি বিশেষ ছাড়পত্র বাতিল করে। এর ফলে মঙ্গলবার থেকেই লাখ লাখ ব্যারেল ইরানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে এবং পরবর্তীতে কোনো হস্তক্ষেপ করা হলে তার ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে। এক সময় ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মূল উত্তেজনা থাকলেও, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সবচেয়ে বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।