১১ জুলাই, ২০২৬
শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে হঠাৎ করে খাবার পরিবেশনের সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।কারণ খাসির মাংস খাওয়ানো কথা থাকলেও পাতে দেওয়া হয়েছে মুরগির মাংস! এ নিয়ে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে বেধে গেল তুমুল মারামারি। এক পর্যায়ে লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে চালানো এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের সাহরসা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর শহরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মোহাম্মদ আনোয়ারের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের সঙ্গে মোহাম্মদ জাভেদ ওরফে মোটোর মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তারা জানান, বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা বেশ শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর, যখন বরযাত্রীরা খাবারের টেবিলে বসেন।
এ সময় বরের এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, বিয়ের মেন্যুতে তাদের খাসির মাংস খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হলে দেখা যায়, খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়ে বরপক্ষের লোকজন প্রতিবাদ জানালে কনেপক্ষের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই চরম আকার ধারণ করে উভয় পক্ষের এই মারামারি । পরে কনেপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বরযাত্রীদের ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সিমরি বখতিয়ারপুরের মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মারামারির বেশ কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। একটিতে দেখা গেছে, উন্মত্ত লোকজন লাঠি দিয়ে অতিথিদের পেটাচ্ছে এবং এমনকি খোলা তলোয়ার উঁচিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।