১২ জুলাই, ২০২৬
অবশেষে জানা গেল নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা স্টেশনে ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগমের প্রকৃত পরিচয়। ২৫ বছর ধরে যাঁকে স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি ও স্বজনহীন বলে জানত, তাঁর আসল নাম ওয়াহিদা বেগম (৭০)।
ওয়াহিদা বেগম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের শাখাটিয়া এলাকার মৃত রহিম উদ্দিনের মেয়ে। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তিনিসহ আট ভাই-বোনের সবাই ছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী। তাঁর দুই ভাই এরই মধ্যে মারা গেছেন।
বর্তমানে দুই ভাই ও তিন বোন জীবিত আছেন।
ওয়াহিদার জীবনের গল্প আরো হূদয়বিদারক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বছর আগে তাঁর স্বামী ও একমাত্র কন্যাসন্তানের মৃত্যুর পর ট্রেনে করে তিনি রায়পুরার মেথিকান্দা স্টেশনে এসে পৌঁছান। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের পরিচয় দিতে পারেননি।
স্থানীয়রা তাঁর নাম দেন ‘ববি বেগম’। এর পর থেকেই তিনি ওই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্টেশনের শৌচাগার ও প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করতেন তিনি। অতিকষ্টে প্রায় ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু সেই সঞ্চিত টাকার লোভেই গত ৪ জুলাই স্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে ছিনতাইকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তাঁর সব টাকা লুট করে নেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে আবার স্টেশনেই ফিরিয়ে আনা হয়। ৭ জুলাই হঠাত্ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ওয়াহিদা বেগমের ছোট বোনের জামাতা সৈকত জানান, ফেসবুকে এক বৃদ্ধা বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে পিটিয়ে হত্যা ও তাঁর সঞ্চিত টাকা লুটের একটি পোস্ট দেখেন তিনি। পরে সেটি তাঁর স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে দেখালে তিনি ছবিটি দেখে নিজের খালাকে শনাক্ত করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিশ্চিত হন যে নিহত নারীই তাঁদের দীর্ঘদিনের নিখোঁজ স্বজন ওয়াহিদা বেগম।