১২ জুলাই, ২০২৬
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে ‘প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব’, ‘সফল আইনজীবী’ ও ‘আপাদমস্তক ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বলেন, তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।
রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে সাবেক স্পিকারের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।
আলোচনায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন ‘সেলফ-মেড ম্যান’। নিজের মেধা ও যোগ্যতায় তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং গণতন্ত্রের প্রতি তার ছিল অটল বিশ্বাস।
মন্ত্রী বলেন, জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি দলের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং সবসময় বলতেন, ‘নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা তাকে সবসময় সুটেড-বুটেড, আপাদমস্তক একজন জেন্টলম্যান হিসেবে দেখেছি। তিনি আমাদের পিতৃতুল্য ছিলেন, কিন্তু কখনোই “আপনি” ছাড়া কথা বলতেন না। তিনি জানান, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সাবেক স্পিকারদের মতো তাকেও জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণেই দাফন করা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে যখন আমরা আইনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, তখন তিনি আমাদের নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছেন।
আমরা সম্মানী দিতে চাইলেও তিনি এক টাকাও নেননি। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দোকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে দূর থেকে হ্যাট, কোট ও ছাতা হাতে কাউকে দেখলেই বোঝা যেত তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি তার মক্কেলদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ছিলেন।
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জাতি আজ এক মহান রাজনীতিক ও সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে।
তিনি এই চেয়ারে বসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের সম্মানে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের পরিচালনায় তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রবিবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।