আফগান নিরাপত্তা অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালককে গুলি করে হত্যা

১২ জুলাই, ২০২৬

আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশে জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক আবদুল্লাহ রহিমি বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির কাছে তাইওয়ারা জেলার একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

গত এক মাসে ঘোরে আফগানিস্তানের সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর তৃতীয় সদস্য হিসেবে তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেল।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রজাতন্ত্র সরকারের সময় রহিমি মধ্যাঞ্চলীয় ঘোর প্রদেশে জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তরের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি তাইওয়ারা জেলায় গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রধান ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য ইব্রাহিম মালেকজাদা এবং জামিয়াত-ই-ইসলামি দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

এ হত্যাকাণ্ডের দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তালেবানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ঘোরের শাহরাক জেলার সাবেক পুলিশপ্রধান মোহাম্মদ হুসাইন হেরাত বিমানবন্দরের কাছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

এরও আগে, তাইওয়ারা জেলার সাবেক পুলিশপ্রধান এবং মালেকজাদার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিরাজউদ্দিনকে ঘোরের পাই হিসার এলাকায় তার বাড়ির বাইরে মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা গুলি করে হত্যা করে।

সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবানের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বললেন, ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা তালেবানের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।’

তালেবান বারবার বলেছে, তারা সাধারণ ক্ষমার ঘোষণার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সাবেক সরকার বা সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।

তবে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক কর্মকর্তা এবং আফগানিস্তানের সাবেক জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ২৩টি ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের ঘটনা, নির্যাতন বা অন্যান্য দুর্ব্যবহারের ৯টি ঘটনা এবং ৫টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।

একাধিকবার সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।