১৩ জুলাই, ২০২৬
ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পৃথক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে এক শিশু ও এক কৃষকসহ তিনজন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতদের পারিবারিক ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের দক্ষিণ নওপাড়া গ্রামে শনিবার বিকেলে বাড়ির উঠানে খেলার সময় নিখোঁজ হয় আড়াই বছরের শিশু মারুফ হোসেন। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাকে ভাসতে দেখেন। উদ্ধার করে আনা হলে স্থানীয় চিকিৎসকতাকে মৃত ঘোষণা করেন। মারুফ ওই গ্রামের মোজাহারুল ইসলামের ছেলে। আরেক দুর্ঘটনায় রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় এলাকায় পুকুরে গোসল করতেনেমে সোনিয়া খাতুন (১০) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে মাদ্রাসার পাশের একটিপুকুরে গোসল করতে গিয়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেচিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোনিয়া হরিপুর উপজেলার দামোল গ্রামের সোহেল রানার মেয়ে।
এদিকে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের কিসমত তেওয়ারীগাঁও গ্রামে ঢেপা নদী পারহতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ডুবে কলেস চন্দ্র রায় (৪১) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে ক্ষেতের কাজ শেষে নদী পার হওয়ার সময় তিনি নিখোঁজ হন। রবিবার ভোরে নদীর ঘাটে তার লাশ ভেসে উঠলে স্বজনেরা তা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কলেস ওই গ্রামের বুধারু বর্মনের ছেলে। অপরদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রুহিয়াউপজেলার মাধবপুর গ্রামে ঘরের টিনের বেড়া সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রঞ্জনা রানী(৩৫) নামের এক নারী। শনিবার রাতে ঘরের কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুতায়িত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেকর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রঞ্জনা ওই গ্রামের ইন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার রায়পুর আশ্রমপাড়া গ্রামে নির্মাণাধীন রান্নাঘরের কাজ করারসময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রী মতি বালা (৪২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে রান্নাঘরের চুলার মাটি সরানোর সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক পানিরপাম্পের লিকেজ তারে স্পৃষ্ট হন তিনি। চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা মেইন সুইচ বন্ধ করে তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের সুরেন বর্মনের স্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি ঘটনার বিষয়েই নিজ নিজ থানায় পৃথক অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়।